ঢাকা বৃহস্পতিবার, জুন ২৭, ২০১৯
| আপডেটঃ ১ দিন আগে

ছাত্রীর ফেইজবুক আইডিতে নগ্ন ছবি পাঠানোর অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক আপডেট: May 16, 2019

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠি সরকারি হরচন্দ্র বালিকা বিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানের সহকারী শিক্ষক মো. রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর ফেইসবুক আইডিতে নিজের নগ্ন ছবি পাঠানোর ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষ ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের বরিশাল অঞ্চলের উপ-পরিচালকের কাছে শাস্তি মূলক বদলীর সুপারিশ করেছে।

বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযুক্ত শিক্ষক গাঢাকা দেন। অভিভাবকদের মাঝে এ নিয়ে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এর পূর্বেও বিবাহিত এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর সাথে সম্পর্ক করে পালিয়ে বিয়ে করার অভিযোগ রয়েছে। সরকারি হরচন্দ্র বালিকা বিদ্যালয় সূত্রে জানাযায়, গত ১১ মে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানতে পারেন দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর ফেইসবুকের ম্যাসেঞ্জারে শিক্ষক মো. রেজাউল করিম নিজের নগ্ন ছবি পাঠিয়েছেন। ঘটনার পর ঐ ছাত্রী কয়েকজন শিক্ষকের মেসেঞ্জারে ছবিটি ফরোয়ার্ড করে পাঠায়।

এ ঘটনা শিক্ষকরা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু সাইদ মো. ফরিদকে জানান। সাথে সাথে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শরীরচর্চা শিক্ষক মাসুম বিল্লাহ ও সহকারি শিক্ষক শিরিন সারমিনকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। তারা তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা খুজে পান। ঐ ছবির সাথে শিক্ষক রেজাউল করিমের বাসার আসবাব পত্র ও অন্যান্য দৃশ্যের মিল খুঁজে পান তদন্তকারী দুই শিক্ষক। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অপর শিক্ষকরা শিক্ষক রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রধান শিক্ষকের কাছে সুপারিশ করেন।

এ দিকে অভিযুক্ত শিক্ষক রেজাউল করিম ঘটনা আড়াল করতে তাঁর ফেইসবুক আইডি হ্যাক হবার কথা জানিয়ে ওই দিনই ঝালকাঠি সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরের দিন ১২ মে এ ঘটনায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বিদ্যালয় থেকে তাঁকে বদলী করার জন্য প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের বরিশাল অঞ্চলের উপ-পরিচালকের কাছে আবেদন করেন। প্রধান শিক্ষক অভিযুক্ত শিক্ষককের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে অতি দ্রুত বদলীর সুপারিশ করে বরিশাল মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা উপপরিচালকের কাছে লিখিত ভাবে জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থী অভিভাবক ও শিক্ষকরা জানান , অভিযুক্ত শিক্ষক রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও ছাত্রীদের সাথে অশালীন আচরণ ও যৌণ হয়রানীর অভিযোগ রয়েছে। বিবাহিত এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে তিনি গত বছর দশম শেণির এক ছাত্রীর সাথে সম্পর্ক করে গোপনে বিয়ে করার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তৎকালিন প্রধান শিক্ষক বিশ্বনাথ সাহার কাছে অভিযোগ করেও কোন সুবিচার পায়নি অভিবাবকরা।

এ বিষয়ে ঘটনার তদন্ত করা শিক্ষক মাসুম বিল্লাহ জানান, আমরা শিক্ষক রেজাউল করিমের বাসায় বসে তোলা নগ্ন ছবির সত্যতা খুজে পেয়ে প্রধান শিক্ষককে অবহিত করেছি। একই সাথে তাকে দ্রুত বিদ্যালয় থেকে বদলীর সুপারিশ করেছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীন দ্বন্দ ও কোন্দলের কারণে আমি কয়েকজন শিক্ষকের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি। আমার ফেসবুক আইডি হ্যাক করে এ নগ্ন ছবি পাঠানো হয়েছে। আপনার বাসার দৃশ্যের সাথে ছবি দৃশ্যের মিল হলো কিভাবে জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর দেননি।

এ প্রসঙ্গে ঝালকাঠি সরকারি হরচন্দ্র বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু সাইদ মো. ফরিদ জানান, আমি শিক্ষকদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছি। তাই উপ-পরিচালকের কাছে এই শিক্ষককে অতি দ্রুত বদলীর জন্য গত ১৪ মে সুপারিশ করেছি।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন