ঢাকা বুধবার, জুলাই ১৭, ২০১৯
| আপডেটঃ ৭ ঘন্টা আগে

ফণা তুলে এসে লঘুচাপ হয়ে বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রম করেছে ফণি

অনলাইন ডেস্ক আপডেট: May 5, 2019

কয়েকদিন ধরে আলোচনায় বিগত ৪৩ বছরের মধ্যে সবচাইতে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ফণি। বঙ্গোপসাগরের গভীরে সৃষ্টি হওয়া ফণি গতকাল প্রবল বেগে ভারতের ভুবনেশ্বর, পুরী এবং উড়িষ্যা, কোলকাতায় তাণ্ডব চালিয়ে শনিবার সকালে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তবে ফণির যে ধরণের ভয়াবহতা ধারণা করা হচ্ছিল সেরকমটি দেখা যায়নি। অপেক্ষাকৃত দুর্বল হয়ে প্রবেশ করে শেষ পর্যন্ত লঘুচাপ হয়ে বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রম করেছে ফণি।

ভারতের উড়িষ্যা ও কোলকাতায় তাণ্ডব চালিয়ে কিছুটা দুর্বল হয়ে শনিবার সকাল ৬টার দিকে সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও যশোর দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে ঘূর্ণিঝড় ফণি। আবহাওয়া বিষয়ক ওয়েব সাইট উইন্ডি বলছে, ফণি দেশের মধ্যাঞ্চল দিয়ে শনিবার রাত আটটার দিকে অনেকটা লঘু চাপে পরিণত হয়ে পাবনা-ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল অঞ্চল দিয়ে স্পষ্ট লঘুচাপ হয়ে বের হয়ে গেছে। ফলে আসামে গিয়ে ফণি শক্তিহীন হয়ে পড়েছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ফণি ভারত-বাংলাদেশের অনেকটা স্থলপথ দিয়ে যাওয়ার কারণে ক্রমশই শক্তি হারিয়ে দুর্বল এবং অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

আবহাওয়াবিদ একেএম রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘ফণি মাঝারি মানে ঘূর্ণিঝড় হয়ে দেশে প্রবেশ করলেও ধীরে ধীরে এটি শক্তি হারিয়েছে। শেষ পর্যন্ত এটি লঘু চাপে পরিণত হয়ে টাঙ্গাইল-ময়ময়নসিংহ অঞ্চলের উত্তর-উত্তরপূর্ব দিক দিয়ে বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রম করেছে। বর্তমানে এটি শক্তি হারিয়ে গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে লঘুচাপের প্রভাবে বাংলাদেশের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। দেশের কিছু কিছু স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ ঝড়ো বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। এছাড়াও উত্তর বঙ্গোপসাগর উত্তাল রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘণ্টায় ৪০/৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।’

আবহাওয়া অফিস বলছে, অমাবশ্যা ও বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্যের কারণে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালি, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, হাতিয়া, সন্দীপ, বরগুনা, পটুয়াখালি, বরিশাল, পিরোজপুর, পটুয়াখালি, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরাসহ অদূরবর্তী দ্বীব ও চরসমূহে ২ থেকে ৪ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছাস প্লাবিত হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুলেটিন অনুযায়ী, সাগর এখনও উত্তাল। মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে দেয়া ৭ নম্বর বিপদ সংকেত থেকে নামিয়ে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেতের পরিবর্তে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেতের পরিবর্তে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এছাড়াও গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা ট্রলারগুলোকে নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার অস্বাভাবিক আকার ধারণ করে বঙ্গোপসাগরের গভীরে প্রবল শক্তি সঞ্চয় করছে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণি। বলা হচ্ছিল, ১৯৭৬ সালের পর এতো শক্তিশালী ঝড়ের মুখোমুখি হয়নি ভারতীয় উপমহাদেশ। ফলে ৪৩ বছরের মধ্যে এটিই সবচাইতে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। তবে ফণি সবচাইতে বেশি তাণ্ডব চালায় ভারতে, বেশ কিছু লোকের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। প্রাণহানি এবং ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশেও তবে সেটা আশঙ্কার চাইতে অনেক কম।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন